Job

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

- বাংলা - বাংলা সাহিত্য | NCTB BOOK
1.2k

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন একাধারে বহুভাষাবিদ, পণ্ডিত, সাহিত্যিক, ধর্মবেত্তা ও শিক্ষাবিদ। বাংলা সাহিত্য সম্পর্কিত গবেষণার জন্য তাঁর নাম এদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে অত্যুজ্জ্বল হয়ে আছে। সে জন্য তাঁকে 'জ্ঞানতাপস' অভিধায় অভিহিত করা হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক শুরু হলে তিনি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে জোরালো মত দেন। মধ্যজীবন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ভাষাতত্ত্বচর্চা বাদ দিয়ে ইসলাম চর্চা ও তা প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।

  • ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১০ জুলাই, ১৮৮৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণার পেয়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। আকিকাকৃত নাম মুহম্মদ ইব্রাহিম। পরবর্তীতে তাঁর মা হুরুন্নেসা সে নাম পরিবর্তন করে রাখেন মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
  • বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী ও কার্টুনিস্ট মর্তুজা বশীর (১৯৩২-২০২০) তার ছেলে।
  • তিনি 'আঙুর' (১৯২০- শিশু পত্রিকা), 'দি পিস' (১৯২৩-ইংরেজি মাসিক পত্রিকা), 'বঙ্গভূমিক' (১৯৩৭- মাসিক সাহিত্য পত্রিকা), 'তকবীর' (১৯৪৭- পাক্ষিক পত্রিকা) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন এবং 'আল এসলাম' (১৯১৫) পত্রিকার সহসম্পাদক ছিলেন।
  • তিনি ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৬ সালে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কর্তৃক আয়োজিত প্রতিষ্ঠা সভার সভাপতি ছিলেন।
  • তিনি মোট ২৬টি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন, এর মধ্যে ১৮টি ভাষায় ছিল তার অগাধ পাণ্ডিত্য।
  • তিনি ১ জুলাই, ১৯৬০ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৩ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' এর কাজ সম্পন্ন করেন।
  • তিনি ১ জুলাই, ১৯৬০ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' প্রকল্পের সম্পাদক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৩ সালে 'পূর্ব পাকিস্তানি ভাষার আদর্শ অভিধান' এর কাজ সম্পন্ন করেন।
  • তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম 'ইমেরিটাস অধ্যাপক' পদ লাভ করেন।
  • তিনি ১৩ জুলাই, ১৯৬৯ সালে মারা যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে তাকে সমাহিত করা হয়। ঐ বছরই 'ঢাকা হল' এর নাম পরিবর্তন করে 'শহীদুল্লাহ হল' নাম রাখা হয়।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কর্মজীবনঃ

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ২ জুন, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। 'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি'র (৪ সেপ্টেম্বর, ১৯১১) সম্পাদক (১৯১১-১৫)। ১৯৬৩ সালে বাংলা একাডেমি কর্তৃক 'বাংলা পঞ্জিকা তারিখ বিন্যাস' কমিটির সভাপতি, বাংলা একাডেমি'র ইসলামি বিশ্বকোষ প্রকল্পের (১৯৬৪) সম্পাদক এবং পাকিস্তান এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রিন্সিপাল ইব্রাহীম খাঁ ও অধ্যাপক আবুল কাশেম সহযোগে মিরপুর বাংলা কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে অবসর গ্রহণ করে বগুড়া আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংল বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন এবং কলা অনুষদের ডিন ছিলেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গবেষণামূলক গ্রন্থগুলোঃ

'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' (১৯৬৫): এটি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত। এটি বাংলা ভাষার প্রথম আঞ্চলিক অভিধান। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।

Buddhist Mystic Songs (১৯৬০): এটি ‘চর্যাপদ’ বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ।

'সিদ্ধা কানুপার গীত ও দোহা' (১৯২৬), 'ভাষা ও সাহিয়া (১৯৩১), 'বাংলা সাহিত্যের কথা' (১ম খণ্ড- ১৯৫৩, স খণ্ড- ১৯৬৫), 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' (১৯৩৬), 'বৌদ্ধ মর্মবানী গান' (১৯৬০), 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' (১৯৬৫)।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র সাহিত্যকর্মসমূহঃ

'পল্লিসাহিত্য': ১৯৩৮ সালে কিশোরগঞ্জ জেলায় পুর্ব ময়মনসিংহ সাহিত্য সম্মিলনী'র একাদশ অধিবেশন সভাপতি হিসেবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ যে অভিভাষণ দেন তারই লিখিত রূপ প্রবন্ধটি।

'Traditional Culture in East Pakistan': ১৯৬৩ সালে তিনি এটি মুহম্মদ আবদুল হাই সহযোগে রচনা করেন 'ইকবাল' (১৯৪৫), 'Essays on Islam' (১৯৫ 'আমাদের সমস্যা' (১৯৪৯), 'বাংলা আদব কি ভারিন (১৯৫৭)।

অনুবাদ গ্রন্থ: 'দীওয়ানে হাফিজ' (১৯৩৮), 'মহানবী (১৯৪০) 'অমিয়শতক' (১৯৪০), 'বাণী শিকওয়াহ' (১৯৪২), জাওয়াব-ই-শিকওয়া' (১৯৪২), 'রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম' (১৯৮২) 'বাইঅতনামা' (১৯৪৮), 'বিদ্যাপতি শতক' (১৯০৪/'কুরআন প্রসঙ্গ' (১৯৬২), 'মহররম শরীফ' (১৯৮২) 'অমর কাব্য' (১৯৬৩), 'ইসলাম প্রসঙ্গ' (১৯৬৩)।

সম্পাদিত গ্রন্থ: 'পদ্মাবতী' (১৯৫০), 'প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শের নবী' (১৯৫২)।

গল্পগ্রন্থ: 'রকমারি' (১৯৩১)।

গল্প: 'সততার পুরস্কার'।

শিশুতোষ গ্রন্থ: 'ছোটদের রসুলুল্লাহ' (১৯৬২), 'সেকালের রূপকথা (১৯৬৫), 'শেষ নবীর সন্ধানে'।

বিখ্যাত উক্তি: ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি। এটি কোন আদর্শের কথা নয়, এটি বাস্তব কথা।’

'যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সে দেশে গুণীজন জন্মাতে পারে না।'

Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সুকুমার সেন
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
মুহম্মদ এনামুল হক
মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
মুহাম্মদ আবদুল হাই
মুনীর চৌধুরী
মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী
মুনীর চৌধুরী
রশীদ করিম
শওকত ওসমান
শহীদুল্লাহ কায়সার
ভাষাতত্ত্ববিদ
সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা
ইসলাম প্রচারক
সমাজ সংস্কারক
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...